ওসির অপসারণ দাবি : চাটমোহরে ব্যবসায়ীকে মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বিশেষ প্রতিবেদক: পাবনার চাটমোহরে পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, মারধর ও  ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বিদ্যুতকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চাটমোহর ব্যসায়ী সমিতি সদস্যরা। সোমবার বিকেলে পৌর শহরের আমতলা মোড়ে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কে এম বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বিদ্যুতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন, সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সাইদুল হক কিসলু, জুয়েলারী সমিতির সভাপতি সন্দ্বীপ কর্মকার, ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ইউনুস আলী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হেলালুর রহমান জুয়েল, ছাত্রলীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রাজিব কুমার বিশ্বাস, রিন্টু কুন্ডু, জাসদ নেতা সুজা উদ্দিন বিশ্বাস, তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, ব্যবসায়ী রবিউল করিম, দফতর সম্পাদক এনামুল হক, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা থানার ওসি’র অপসারণ ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি করেন। এছাড়াও সমাবেশ থেকে মঙ্গলবার (আজ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সব দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন তারা। পরে ধর্মঘটের সমর্থনে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুরাতন বাজারের বস্ত্র ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম তুহিন আফ্রাতপাড়া মহল্লার ঝন্ডল নামে এক ব্যক্তির কাছে পাওনা টাকা চাইলে তাদের দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে ঝন্ডল তার পরিবারের অন্য সদস্যদের খবর দিলে তারা একত্রিত হয়ে দোকানে হামলা করে তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে ওই দোকানদারকে উদ্ধার করে বাসায় রেখে আসার পথে ঝন্ডল গং ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান বিদ্যুতকেও লাঞ্ছিত করে। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দেয়া হলে পুলিশ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত মিলন হোসেন নামে এক যুবককে আটক করার পর ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। রোববার রাতে ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান বিদ্যুৎ ও ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম তুহিন ছয় জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়েরের জন্য পৃথক দুটি অভিযোগ পত্র দেন। এরপরেও পুলিশ আসামী গ্রেফতার না করায় ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে এবং ধর্মঘটের ডাক দেয়।

ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কেএম বেলাল হোসেন স্বপন বলেন, ‘পুলিশ আদৌ মামলা গ্রহণ করেছে কিনা আমরা জানি না। আমাদেরকে এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি। আমরা সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ডেকেছি। পুলিশ অভিযুক্ত মিলন হোসেন নামে এক যুবককে আটক করার পর ছেড়ে দিয়েছে।’ ওসির অপসারণ দাবি করে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করলে পুলিশ প্রশাসন ও অভিযুক্তদের কাছে কোন প্রকার মালামাল বিক্রি করা হবে না। সেই সাথে আগামীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা  দেয়া হবে।’

এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আহসান হাবীব দৈনিক চলনবিলকে জানান, রবিবার রাতে ওই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা রেকর্ডের পরপরই পুলিশি অভিযান চালানো হয়, তবে আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলা দুটি তদন্তাধিন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *